দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মেহেরখার কান্দি এলাকায় পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে সামিয়া (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পল্লী চিকিৎসকের দেওয়া একাধিক ইনজেকশনের পর শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিয়া জাজিরা উপজেলার মেহেরখার কান্দি এলাকার প্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা দম্পতির মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে কলহের জেরে লায়লা বাবার বাড়িতে চলে যান। মেয়েকে সঙ্গে নিতে চাইলেও শ্বশুর-শাশুড়ি সামিয়াকে তাঁদের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়েক দিন আগে সামিয়ার পিঠে একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। পরে তার দাদা-দাদি স্থানীয় একটি ফার্মেসির পল্লী চিকিৎসক মনিরের কাছে তাকে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, ফোঁড়া কাটার আগে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে কাজ না হওয়ায় একে একে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই সামিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে সামিয়ার মায়ের অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটির দাদা-দাদি ও পল্লী চিকিৎসক মনির পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, পিঠের ফোঁড়া কাটানোর জন্য শিশুটিকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর সে ঝিমিয়ে পড়ে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/